আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী, শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ঢাকা দোহার সড়কের জাহানাবাদ এলাকায় প্রতি সপ্তাহে একদিন লৌহজাত দ্রব্য বিক্রয় করতে আসেন বিক্রেতা আব্দুস সালাম। সালামের ভাসমান দোকানটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার পরপরই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। এ ভাসমান দোকানে লোহার দা, বটি, ছুরি কাঁচি, চাপাটি, কোদাল ও কুড়াল পাওয়া যায়।
ক্রেতা আব্দুল জলিল জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত বিক্রেতা আব্দুস সালামের ভাসমান দোকান হতে লৌহজাত দ্রব্য ক্রয় করে থাকেন আব্দুস সালাম ভালো মনের দ্রব্য বিক্রয় করেন দাম ও তুলনামূলক কম তাই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি একটি দা ও বটি ১৭০০ টাকায় ক্রয় করলেন।
তৈয়ব আলী নামক অপর এক ক্রেতা ৭০০ টাকা দিয়ে একটি বটি ক্রয় করলেন। তিনি জানান আব্দুস সালামের লোহার তৈরি কৃত দ্রব্য ভালো মানের। এছাড়া তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ। বিক্রয়কৃত দ্রব্য সীমিত আকারেলাভ করেন তাই যখন তার লৌহজাত দ্রব্য প্রয়োজন হয় তখন তিনি সে সব দ্রব্য আব্দুস সালামের কাছ থেকে ক্রয় করে থাকেন।
বিক্রেতা আব্দুস সালাম জানান, দীর্ঘ ষোল বছর যাবত তিনি এ ব্যবসার সাথে জড়িত।
তিনি চেষ্টা করেন ভালো মনের লৌহজাত দ্রব্য বিক্রয় করতে এবং সীমিত লাভে এসব দ্রব্য বিক্রয় করায় তার ভাসমান দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি।
তিনি ১৬ বছর যাবত এব্যবসার সাথে জড়িত। এ ব্যবসা টাকার আয় দিয়ে সংসার চালনার পরে তিনি চার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। ছেলেরাও বিদেশে ভালো আয় করছেন। তাদের আয়কৃত টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। সেই টাকায় সংসার সুন্দর ভাবে চলছে। দু’ছেলে প্রতিমাসে তাকে ১০ হাজার টাকা করে পাঠাচ্ছেন হাত খরচের।
তিনি জানান, সততার সাথে যে কোনো কাজ করলে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তিনিও একজন স্বাবলম্বী ব্যবসায়ী। ছেলেরা তাকে অবসর নিতে বললেও তিনি মনে করে সুস্থতার জন্যই তাকে সীমিত আকারে হলেও কাজ করতে হবে তাই তিনি বসে না থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারগ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার ফুলতলা ঢালার পাড় গ্রামে।

