মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পসহ উপজেলার ৭৪টি সেচ স্কীমের ম্যানেজার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও বিএডিসি’র জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি এর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকসহ ম্যানেজার প্রার্থীরা।
১০ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে অষ্টগ্রাম উপজেলা জিরোপয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, উপজেলা সেচ কমিটি ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি আর সংশ্লিষ্ট বিএডিসি’র উপজেলা প্রশাসনের যোগসাজশের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং সেচস্কীমের নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
ম্যানেজার পদে আবেদনকারীরা জানান, তারা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দেন এবং প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সেচ প্রকল্পের সভাপতি বরাবর নির্বাচনের দাবি জানান। ইউএনও আশ্বাস দিয়েছিলেন যে উপজেলা সেচ কমিটির সভা শেষে যে স্কীমগুলোতে অভিযোগ রয়েছে তাঁর মধ্যে কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের বিষয়েও নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ৯ নভেম্বর সভা হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ৬ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে উপজেলা বিএডিসি উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক সারাদিন আত্নগোপনে থেকে ভৌতিকভাবে অফিস নোটিশ বোর্ডে স্কীমের ম্যানেজার নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করেন এবং একই সঙ্গে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কৃষকদের দাবি, কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে রাজনকে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সেচ প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৫০ শতাংশই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টগ্রাম উপজেলার মোট ৭৪টি সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগে প্রায় ৪ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটি অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আবেদনকারীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে দাবি করেছেন, কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের নিয়োগ বাতিল করে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হোক। পাশাপাশি তারা কৃষকদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন ম্যানেজার নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
কৃষকদের সাথে একাত্নতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সহ সভাপতি ও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আর চৌধুরী শিপু, অষ্টগ্রাম উপজেলার সহ সভাপতি হাজী শেখ জসীম, কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম কিসমত, অষ্টগ্রাম উপজেলা মৎসজীবি দলের সভাপতি মাহফুজ আলম দানা, মহরম আলী মেম্বার, কৃষক রায়হান প্রমূখ।
কৃষকদের ভাষায়, “সেচ প্রকল্প কৃষকদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে রাজনৈতিক প্রভাব নয়, কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতেই নীতিমালা অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”
এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএডিসি অফিসে গিয়ে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায় এবং উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হকেরও মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাতো আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই, প্রশাসনের বিষয়। তাছাড়াও যারা মানববন্ধন করেছেন, তারাও সুবিধাবাদী বিএনপি এবং অসৎ লোক।
বিএডিসি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসারফ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। এটা উপজেলা সেচ স্কিম কমিটির সভাপতি ইউএনও তিনিই সব জানেন।
বিষয়টি নিয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলশাদ জাহান অসুস্থ জনিত ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

