লৌহজং প্রতিনিধি-মোঃ স্বপন বেপারী:
এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ কে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে চারজন প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চার প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তার এ সিদ্ধান্ত নির্বাচনী মাঠে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা উভয়েই ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একইভাবে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজী আব্বাস কাজী দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
তবে সব আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির আরেক স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থী মমিন আলী তাদের মনোনয়ন বহাল রেখেছেন। এতে করে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে দলীয়ভাবে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শিল্পপতি মো. আবদুল্লাহ এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন। ফলে এসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিএনপি ও ১০ দলীয় জোট সংশ্লিষ্ট রাজনীতির প্রভাব মিলিয়ে ভোটের লড়াই হবে ত্রিমুখী।
প্রসঙ্গত, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে মোট ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে এখন নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে বাড়ছে কৌতূহল ও উত্তেজনা।

