
মো. একরামুল হক, চট্টগ্রাম হাটহাজারী:
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশের আর্থিক খাতকে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিতে এবং ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার।
‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অডিটোরিয়ামের সম্মেলনকক্ষে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাস মসজিদের ইমাম জনাব মো. খালেদ সাইফুল্লাহ, এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জনাব জনাবদন ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পক্ষ থেকে প্রদর্শিত স্বাগত ভিডিও বার্তায় নগদবিহীন অর্থনীতির সুফল ও ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারের দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মূল প্রেজেন্টেশনে তুলে ধরেন ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রফেসর ড. মো. শামীম উদ্দিন খান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক); বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান, পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের পরিচালক সোহেল আলিম,
এবং ইসলামী ব্যাংক হাটহাজারী শাখার এভিপি ও প্রধান মোহাম্মদ আলম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন- “ক্যাশলেস বাংলাদেশ শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি স্মার্ট অর্থনীতির ভিত্তি। শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম যদি ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়, তবে দুর্নীতি, জাল নোট ও আর্থিক অনিয়ম অনেকাংশে কমে যাবে।”
প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন- “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা এখান থেকেই ডিজিটাল লেনদেনের চর্চা শুরু করুক। ক্যাশলেস লেনদেন কেবল সময় বাঁচায় না, এটি একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছ অর্থনীতির নিশ্চয়তা দেয়।”
অনুষ্ঠানে কো-ব্র্যান্ডেড কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তী আলোচনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক রাফেজা আক্তার কান্তা।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে নগদবিহীন অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের হাতে স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সেমিনার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি সচেতনতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।
সেমিনারের পরিসমাপ্তি ঘটে এক প্রতিশ্রুতি উচ্চারণের মধ্য দিয়ে— “লেনদেন হবে ক্যাশলেস, বাংলাদেশ হবে স্মার্ট।”