
কিছুদিন আগে বিকাল বেলা বাহিরে ঘুরতে গিয়েছিলাম, সাথে ছিল তিনজন লোক। ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ করে একটি ডাস্টবিনের মধ্যে আমার চোখ যায়, দেখা যাচ্ছে একটি পুরাতন বই। বইটি অনেক সুন্দর, নতুন বই।
উপরের ময়লা পড়ে রইল বইটি হাতে নিয়ে একটি কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছলাম, মুছে পকেটে ডুকালাম। রুমে রেখে দিলাম, বৃহস্পতিবার রাতের ১১ টার দিকে চোখে ঘুম আসতে ছিল না, তখনই বইটি হাতে নিয়ে রুম থেকে বাহিরে গিয়ে বসলাম। বসে পড়তেছিলাম। তখনই আমার সাথে একজন বসলো, বলল ভাই কি পড়েন? একটু জোরে পড়েন! আমিও শুনি। আমি বললাম ঠিক আছে ভাই। পড়তে শুরু করে দিলাম প্রথম থেকে। বইয়ের লেখকের পরিচয় ও ভূমিকা পড়তে শুরু করলাম। বিষয়টা হলো জিকিরের অধ্যায়।
জিকিরের অধ্যায় শেষ করে দ্বিতীয় অধ্যায়। শুক্রবারে জুম্মার দিন ফজিলত সম্পর্কে পড়তেছিলাম সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন জুমাবার। এদিনের সওয়াব-মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও আজহার মতো। মুসলমানদের কাছে এ দিন অপরিসীম ফজিলতের। আল্লাহ তায়ালার কাছে জুমার গুরুত্ব এত বেশি যে, পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি সূরা নাজিল করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে এসো এবং বেচাকেনা বন্ধ করো, এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ। এরপর নামাজ শেষ হলে জমিনে ছড়িয়ে পড়ো, আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা: জুমা, ৬২, আয়াত: ৯-১০)
বিভিন্ন হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এখানে জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কিত চারটি হাদিস তুলে ধরা হলো-শ্রেষ্ঠ দিন আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: সূর্য উদিত হয় এমন সকল দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমু’আর দিন। এই দিনেই আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করান হয়। এই দিনেই তাঁকে তা থেকে বের করা হয়। আর এই জুমুআর দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। - সহিহ- ১৫০২, সহিহ আবু দাউদ ৯৬১, মুসলিম, তা’লীক সহিহ ইবনু খুজাইমাহ ৩/১১৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৪৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আগে মসজিদে যাওয়ার সওয়াব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন জুমার দিন আসে ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে আগন্তুকদের নাম লিখতে থাকে। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি উট সদকা করে। তারপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি গাভী সদকা করে। তারপর আগমনকারী মুরগি সদকাকারীর মতো। তারপর আগমনকারী একটি ডিম সদকাকারীর মতো। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে বের হন, তখন ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি, হাদিস, ৮৮২)
আলহামদুলিল্লাহ বইটি পড়ার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার জুম্মার আযানের সাথে সাথে মসজিদে চলে গেল। তৃতীয় সপ্তায় যখন মসজিদে যায় আমি বললাম ভাই এত আগে কেন এখনো তো অনেক সময় আছে আমাকে ওই লোকটা বলতেছিল আপনি ঐদিন জুম্মার দিনের ফজিলত সম্পর্কে বইটি পড়েছিলেন প্রথম যিনি যাবে একটি উট সাদকা দেওয়ার সওয়াব পাবে। আমি তো একটি উট সাদকা দিতে পারবো না, সেজন্য জুম্মার দিন আগে গিয়ে একটি উট সাদকা নিতে চাই আর মুচকি মুচকি হাসতেছিল। এভাবে আমি ফলো করতেছি প্রায় দুই মাস ধরে জুম্মার নামাজ সবার আগে যাওয়ার চেষ্টা করে।
লেখক: জাহিদুল হক (সোহাগ), সৌদি প্রবাসী।