
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থীকে উপহার ও আপ্যায়নের মাধ্যমে বরণ করে নেয় সংগঠনটি, যা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, অর্থসহ পবিত্র কুরআন, নোটপ্যাড, চাবির রিং, বুকলেট, ছাত্রদের টি-শার্ট, ছাত্রীদের হিজাব এবং অমুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ডায়েরি, বই, কলমসহ নানা উপহার দিয়ে বরণ করে নেয় সংগঠনটি। দুপুরে খাবার পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইবি শিবির শাখা সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. আব্দুল মান্নান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম এবং আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে শিবির সম্পর্কে পূর্বধারণা বদলানোর কথা জানান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, “আগে শুনেছিলাম শিবিরে নাকি রগ কাটে। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম তারা অত্যন্ত বন্ধুসুলভ। উপহার হিসেবে অর্থসহ একটি কুরআন শরীফ পেয়েছি, যা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে।”
অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী অন্বেষা দেবনাথ বলেন, “আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী, কিন্তু এখানে এসে কোনো বৈষম্য পাইনি। মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন কুরআন ও হিজাব ছিল, তেমনি আমাদের জন্য ডায়েরি, কলম, বইও দেওয়া হয়েছে। তাদের আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তনুশ্রী রায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য ওরিয়েন্টেশনে অনেক বিশৃঙ্খলা ছিল, কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে ছিল চমৎকার শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম নবীনদের উদ্দেশে বলেন, “একজন বিশ্বাসীর উচিত নিজের লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের হিসাব রাখা। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের ঘর হিসেবে গড়ে তুলুন, নিজেদের উন্নয়নের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নও নিশ্চিত করুন।”
দিনব্যাপী এ নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অনন্য ইতিবাচক ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।