ঢাকাশুক্রবার , ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. গ্রাম-গঞ্জ-শহর
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম ও ইসলাম
  10. বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপন
  11. ভূমি
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  15. স্বাস্থ্য ও জীবন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট

প্রতিবেদক
Daily Somor Diganta
নভেম্বর ১৪, ২০২৫ ৪:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ:

গত ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) Afsar Hossan Turza নামক এক ফেসবুক আইডি থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধরকে উদ্দেশ্য করে একটি লিখা পোস্ট করা হয়।

লিখাতে Afsar Hossan Turza উল্লেখ করেন “ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ১ ও ২ নং ওর্য়াডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর কিশোর কুমার ধর ওনাকে একাধিক বার কল দিলেও ওনি কল রিসিভ করেন না। এমনকি অফিসে গিয়েও অধিকাংশ সময় পাওয়া যায় না। এতে করে অত্র ওয়ার্ডের নাগরিকরা সেবা পেতে হয়রানি হচ্ছে।”

তার প্রতি উত্তরে একজন কমেন্ট করেন “খুবই দুঃখজনক আমিও ৫ দিন ঘুরেছি তার পিছনে একবার পৌরসভা আরেক বার উপজেলায় উপজেলায় গেলে পরে বলে আগামীকাল চন্ডিবের হসপিটালে দেশে যতদিন না গণমানুষের নেতা না আসবে ততদিন কষ্ট করতে হবে কি আর করমু”

এর আগে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর আজীন সদস্য ডা. কিশোর কুমার ধর ডি.জি. অফিসকে ম্যানেজ করে নিয়মবহির্ভূত ভাবে বন্দরনগরী ভৈরবের মত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ নিয়ে সুশীল সমাজের মাঝে আলোচনার ঝড় উঠেছে এমন মন্তব্য করে “ভৈরব কুলিয়ারচর নাগরিক ঐক্য ফোরাম” নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি https://www.facebook.com/share/15iKccZkUr/ লিংক এর মাধ্যমে একটি লিখা পোস্ট করা হয়েছে। যাহা অনেকের দৃষ্টি গোচর হয়েছে।

এ লিখায় উল্লেখ করা হয়েছিলো ডা. কিশোর কুমার ধর নবম গ্রেডের একজন কমর্কতা হয়ে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকতা হিসাবে কিভাবে নিয়োগ পেলেন তা নিয়ে ভৈরবের সর্বত্র আলোচনার ঝড় উঠে ছিলো। গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এর সকল চিকিৎসক যখন আত্মগোপনে সেখানে ডা. কিশোর কুমার ধর স্বাচিপের আজীবন সদস্য হয়ে কিভাবে ভৈরবের মতো জনবসতি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কি ভাবে পদোন্নতি পেলেন?

এব্যাপারে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ডা. কিশোর কুমার ধর নবম গ্রেডের একজন কমর্কতা হয়ে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকতা হিসাবে কিভাবে নিয়োগ পেলেন? তা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সকল ডা. যখন আত্মগোপনে সেখানে ডা. কিশোর কুমার ধর স্বাচিপের আজীবন সদস্য হয়ে কিভাবে ভৈরবের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পদোন্নতি পায়? তার অতীত কর্মকান্ডের ছবি দেখে কারোরই বুঝার বাকি নেই সে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর ও দালাল ছিলেন। তার কিছু ফাইল ছবিতে এসব তথ্য ফুটে উঠেছে।

বর্তমান সরকার যেখানে সংস্কার করতে গিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষর ও দালালদের উৎখাত করতে মাঠে নেমেছে সেখানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন সাচিপের আজীবন সদস্য ডা. কিশোর কুমার ধর ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা নিয়ে ভৈরবের জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিলো। এ রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে অনেকেই।

ডা. কিশোর কুমার ধর গত ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এবিএম আবু হানিফের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন থানার গোপদিঘী ইউনিয়নের উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি নিজ জন্মভূমি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

কিশোর কুমার ধর ১৯৮৮ সালে ৪ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তার নিজ বাড়ি ভৈরব পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায়। বাবার নাম গোপাল ধর। তিনি একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। মা দীপা সাহা একজন প্রধান শিক্ষিকা। ডা. কিশোর কুমার ধর ২০০৫ সালে ভৈরব সরকারি হাজী আসমত কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ২০১২ সালে সিলেট উসমানী কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন ও ইন্টার্নি করেন। ২০১৪ সালে ৩৩তম বিসিএস এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর নিয়মিত অফিস করেননা। সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে প্রায় সময় সকাল ১০-১১টার দিকে অফিসে আসেন তিনি। আবার দুপুর ১টার দিকেই কর্মস্থল ত্যাগ করে চলে যান। আবার অনেক সময় তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায়না। তাকে প্রয়োজনে কল করেও পাওয়া যায়না। তার দায়িত্ব অবহেলায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে বলেও অনেকে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, যেহেতু তিনি ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক পোস্ট দখল করে আছেন, সেহেতু প্রতিদিন তিনি তার নিজ স্টেশনে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি প্রতি শুক্রবার ও শনিবার তার পূর্বের কর্মস্থল কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে ব্যাস্ত থেকে তার দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে আসছে। এতে করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উর্ধতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এবিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেস্টা করলে তিনি রিসিভ না করায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ছবিতে- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন (এমপি) এর পিএস সাখাওয়াত হোসেন মোল্লা’র বাম পাশে অভিযুক্ত ডা. কিশোর কুমার ধর।

Facebook Comments Box