স্টাফ রিপোর্টার:
ময়মনসিংহে ভিক্ষুক পূর্ণবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি আওতায় ভিক্ষুক পুর্ণবাসন উপকরণ হিসাবে অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১০নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্বাবধানে টান হাসাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা টান হাসাদিয়া এলাকার ক্ষুদার্ত ভিক্ষুক হাছু মিয়ার হাতে চাবিসহ এই অটো রিক্সা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম প্রিন্স। এসময় উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাকসুদা খাতুন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ রুবেল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় গৃহীত হয়েছে ভিক্ষাবৃত্তি মুক্ত মানবিক সমাজ গড়ার কার্যকর উদ্যোগ। “ভিক্ষাবৃত্তি ঘৃণা করি, ভিক্ষুক মুক্ত সমাজ গড়ি—ভিক্ষাবৃত্তি আর নয়, জীবন হোক কর্মময়” এই মানবিক স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ভিক্ষুক পূর্নবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কার্যক্রম।
এই উদ্যোগের আওতায় ১০ নভেম্বর রবিবার উপজেলার পরাণগঞ্জ ইউমিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হাসাদিয়া গ্রামের হাছু মিয়াকে একটি নতুন অটোরিকশা প্রদান করা হয়। এর আগেও গত ১৩ অক্টোবর (সোমবার) সদর উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে এই কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ঘাগড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ভিক্ষুকের হাতে অটোরিকশা ও দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে ৫ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
১. সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূল করা।
২. ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
৩. তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পেশাভিত্তিক এককালীন অনুদান প্রদান।
৪. প্রচারের মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তির কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা।
৫. অসুস্থ ভিক্ষুকদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।
৬. ভাসমান ও আশ্রয়হীন ব্যক্তিদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা।
৭. কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের সমাজে উপযোগী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা।
৮. শারীরিকভাবে অক্ষমদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
এই মানবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র একক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তিক মানুষদের আত্মনির্ভর করে তোলার এক অনন্য প্রয়াস চলছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু অটোরিকশা ও দোকান বরাদ্দ প্রদানের ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি সমাজকে ভিক্ষাবৃত্তিমুক্ত করতে এক বাস্তব পদক্ষেপ।

