মোঃ স্বপন হোসেন:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বেলার শুরুতেই মহান মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।
এরপর মহান বিজয় দিবস-২০২৫ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সম্মিলিত কুচকাওয়াজ ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ই ডিসেম্বর) পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিবৃন্দ। পরে বেলুন, ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানের অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস, সহকারী কমিশনার ভূমি রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম আরিফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ জালাল উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, একাডেমির সুপারভাইজার মোঃ শারফুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্ত, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আনম আব্দুল্লাহ মোমতাজ, সহকারী সেক্রেটারি মোঃ রফিকুল ইসলাম, পৌর আমীর মাওলানা নাজমুল হক, সেক্রেটারি মোজাহিদুল ইসলাম সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ সহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পাকুন্দিয়াবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুপম দাস বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল এ দেশের মানুষের হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির সংগ্রাম এবং একটি জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের চূড়ান্ত লড়াই। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সেই চূড়ান্ত বিজয়ের ফলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা আমাদের অহংকার, বিজয় আমাদের গৌরব। ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় ঐক্য, ত্যাগ ও বীরত্বের অনন্য প্রতীক এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল উৎস।
সহকারী কমিশনার ভূমি রিফাত জাহান বলেন, মহান বিজয় দিবস কেবল অতীতের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণের দিন নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে দেশকে ভালোবাসা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা এবং সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই আমাদের প্রধান কর্তব্য।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম আরিফুর রহমান বলেন, দেশের সূর্যসন্তানেরা যে উদ্দেশ্যে তাদের আত্মত্যাগ করেছেন, সে উদ্দেশ্য আমাদের সম্পন্ন করতে হবে। এদেশকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য আমাদের সবার যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের মধ্য দিয়ে এদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ছিল ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। সে সমাজ প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের আপোষহীনভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, আসুন আমরা জাতির এই ঐতিহাসিক অর্জনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়ন, শক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে একযোগে কাজ করি। বিজয়ের এই গৌরবময় দিনে আমাদের প্রত্যাশা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে উপজেলা পুলিশের একটি চৌকস দল, ব্যাটালিয়ন আনসার, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট দল কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অভিবাদন মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সম্মান জানান।
এছাড়া পাকুন্দিয়া মডেল মাদ্রাসা ও পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শারীরিক কসরত ও মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পাকুন্দিয়াবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও আনন্দের সঙ্গে বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন করে।

