
আরিফ রববানী, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:
ময়মনসিংহ-৯ আসনকে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জন্য অনন্য একটি উদাহরণ তৈরী করতে শিক্ষা, ক্রিড়া, গণমানুষের অধিকার বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নের ইশতেহার নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোট যুদ্ধে নামতে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিধ প্রফেসর ড. এ আর খান।
ইতিমধ্যে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার পর থেকে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রফেসর ড. এ আর খান। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নিজেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরেছেন। ‘প্রতিটি গ্রাম ও শহর এলাকা হবে স্মার্ট’ স্লোগানে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৯টি উন্নয়নমূলককাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রার্থীর প্রতিষ্ঠিত একটি একটি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করছে। তার সেই সংগঠনটি সময়ের স্বল্পতার কারণে নির্বাচন কমিশন থেকে অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি এবার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবেই ভোটে লড়তে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এমপি নির্বাচিত হলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কথা জানালেন এই প্রার্থী।
তার প্রতিশ্রুতি সংবলিত নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে-১. উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত: নির্বাচনি এলাকার সব ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় নতুন পাকা সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। পুরোনো সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কারে জোর দেওয়া হবে।
২. উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনি এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ করা হবে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, বোর্ড ফি ও শিক্ষা-উপকরণ দেওয়া হবে। এসআর সমাজকল্যাণ সংস্থা থেকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
৩. উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার দরিদ্র-অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া এসআর সমাজকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে জটিল রোগীদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
৪. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন: স্মার্ট নগরায়ণের জন্য স্মার্ট পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
৫. সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীমুক্ত সমাজ গঠন: শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে না।
৬. সব সমস্যা সমাধানে–সেবা অ্যাপ চালু: দুর্নীতি নিরসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ হিসেবে নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সেবাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ‘সেবা অ্যাপ’ চালু করা হবে। এর ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম-দুর্নীতিরোধে সহায়ক হবে। অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সব ধরনের সেবা পাবে এবং অভিযোগ ও মতামত জানাতে পারবে।
৭. খেলাধুলায় উৎকর্ষ সাধন: ‘সুস্থ মন, সুস্থ দেহ’ স্লোগানে খেলাধুলায় তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হবে। বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রীর সরবরাহ, ক্রীড়া টুর্নামেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব খেলার মাঠ আছে সেগুলোর উন্নয়ন করা হবে। নতুন মাঠ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৮. পার্ক, জলাশয় ও খাল অবৈধ দখলমুক্তকরণ: নগর ও গ্রামীণ খোলা জায়গাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। হাঁটার জায়গা নেই বললেই চলে। এলাকার মানুষ যাতে মুক্ত পরিবেশে বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করতে পারে, এমন পার্কের ব্যবস্থা করা হবে। জলাশয় ও খাল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হবে।
৯. উন্নত কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ: উন্নত কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যত ধরনের সহায়তা আছে, তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া সব কৃষককে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং দরিদ্র কৃষকদের সমানভাবে বিনামূল্যে সার দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এলাকায় সরকারি-বেসরকারিভাবে নানামুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১১. গৃহ মেরামত ও নির্মাণে সহায়তা: সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের (আশ্রয়ণ, বিধবা ও অনাথ পুনর্বাসন প্রকল্প) মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের মাধ্যমে অসহায়দের গৃহ মেরামত ও নির্মাণে আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
১২. বিভিন্ন উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে সহায়তা: সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি তার নিজস্ব সংগঠনের অর্থায়নে মসজিদ-মাদ্রাসা-এতিমখানা ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ-সংস্কারে সহায়তা দেওয়া হবে।
১৩. গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ: সরকারের বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থ ও কাজ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে।
১৪. নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন: সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন বসতি নির্মাণ, জমি বরাদ্দ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
১৫.নান্দাইলের অসহায় বাসিন্দাদের জন্য আর্থিক সহায়তা: মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেপল্লির বাসিন্দাদের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে; যাতে সামাজিক অস্থিরতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস পায়।
১৬. নারীদের কারিগরি শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ: সরকারি সহায়তায় অসচ্ছল নারীদের কর্মমুখী করার জন্য কারিগরি শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১৭. বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী সবার জন্য ভাতা নিশ্চিতকরণ: সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী সবার ভাতা নিশ্চিত করা হবে।
১৮. ফ্রিল্যান্সার তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি: সরকারিভাবে বিভিন্ন আইসিটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বেকারত্ব কমাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।
১৯. সব এলাকায় ইন্টারনেট সেবা প্রদান: অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে সব এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হবে।
নির্বাচনি এলাকাকে নিরাপদ বাসযোগ্য ও শান্তিময় করার আশ্বাস দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর ড. এ আর খান বলেন, ‘পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নে বাসযোগ্য এলাকা গড়তে চাই। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণ আমার স্বপ্ন। এসময় তিনি তাকে ভোট দিয়ে নান্দাইলবাসীর এই স্বপ্নের যাত্রার সারথি করার জন্য ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান।তিনি বলেন- আমি এমপি নির্বাচিত হলে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সব এলাকার উন্নয়ন হবে দেশের জন্য অনন্য উদাহরণ।’