ঢাকাসোমবার , ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. গ্রাম-গঞ্জ-শহর
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম ও ইসলাম
  10. বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপন
  11. ভূমি
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  15. স্বাস্থ্য ও জীবন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দিলেন জামায়াত প্রার্থী কর্নেল জেহাদ খান

প্রতিবেদক
Daily Somor Diganta
ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ৬:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খাইরুল ইসলাম, করিমগঞ্জ সংবাদদাতা:

কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল–করিমগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব) জেহাদ খান। তিনি এবার জামায়াত মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ডা. জেহাদ খান তাড়াইল-করিমগঞ্জে ৬২টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন। সপ্তাহের চারদিন তিনি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেন। ইতিমধ্যে দুই উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ তার কাছ থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন।

বুধবার করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তারের কাছে মনোনয়ন দাখিল করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল কাসেম ফজলুল হক, নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমেদ, সেক্রেটারি মাওলানা নাজিম উদ্দিন, তাড়াইল উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান ভূইয়া, তাড়াইল উপজেলা সেক্রেটারি এস. এম. মাসুদস, শিবিরের কিশোরগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলাম, শিবিরের করিমগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মোসাব্বির প্রমুখ।

করিমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জোবায়ের আহমেদ বলেন, জেহাদ খান মনোনয়ন পাওয়া পর থেকে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার মাঝে উৎসবের আমেজ বইছে। এলাকায় তিনি গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তার ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ। ইতিমধ্যে তিনি নিজের উদ্যোগে তাড়াইল ও করিমগঞ্জে ৬২টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন, যার কারণে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। দুই উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে তিনি সরাসরি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করে শতাধিক মানুষকে চোখের আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। আগামী মাসে আরও ১৩০ জন রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে শিশুদের ফ্রি খতনা ক্যাম্প করেও তিনি দুই উপজেলায় আলোচিত। তার মতো ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার স্বাস্থ্যসেবা পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মাঝে যে জোয়ার আমরা দেখতে পাচ্ছি তা কল্পনাতীত। দলে দলে মানুষ এখন জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও জেহাদ খানকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই পছন্দ করেন, এটা আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা।

মাওলানা জোবায়ের আহমেদ বলেন, আমরা যখন স্যারকে (ডা. জেহাদ খান) নিয়ে গণসংযোগে যাই তখন দেখতে স্যারের অনেক রোগী এসে পরিচয় দিচ্ছে, আমি আপনার রোগী। অনেকেই গণসংযোগের মাঝেও স্যারের প্রেসক্রিপশন নিচ্ছে।

কে এই জেহাদ খান?
জেহাদ খান ১৯৫৭ সালে ১১ মার্চ কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের শ্যালক হিসেবে পরিচিত হলেও তার পূর্বসূরীদের রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। জেহাদ খানের নানা যুক্তফ্রন্টের এমলএ বা এমপি ছিলেন। ১৯২৩ সালে তিনি বিএ পাশ করে আকর্ষনীয় সরকারি চাকরিতে যোগদান না করে কিশোরগঞ্জ আজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত হন। কিশোরগঞ্জের শহীদি মসজিদ ও জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি।

জেহাদ খানের আপন খালা হাফেজা আসমা ছিলেন জামায়াতের মহিলা সংসদ সদস্য। জেহাদ খানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায়। সেখানে তিনি ৫ বছর পড়াশুনা করার পর আজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ওই বছরই তিনি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ৮ম শ্রেণিতেও তিনি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান।

জেহাদ খান ১৯৭৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে ২১তম স্থান অধিকার করেন। এসএসসি পরীক্ষায় পুরো কিশোরগঞ্জ জেলায় ১ম হওয়ায় ‘ রায়মহাশয়” স্বর্ণপদক লাভ করেন।

১৯৭৮ সালে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে স্টার মার্ক পেয়ে এইসএসসি পাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিন পর তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার সরকারি বৃত্তি নিয়ে চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নের জন্য তিনি রাশিয়া গমন করেন।

১৯৮৬ সালে তাজিকিস্তান থেকে কৃতিত্বের সাথে ডাক্তারি পাশ করেন । ১৯৮৮ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেডিকেল কোরে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি এসসিপিএস পাশ করে ঢাকা সিএমএইচে কার্ঢিওলজি বিভাগে যোগদান করেন। ২০০০ সালে উচ্চতর প্রশিক্ষনের জন্য জার্মান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জার্মানী গমন করেন।

২০০০-২০০৬ তিনি আফ্রিকার আইভরিকোস্টে জাতিসংঘ বাহিনীতে মেডিসিন বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ ২৬ বছর সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন জেহাদ খান। এছাড়া ঢাকা আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

২০১৪ সালে তিনি স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরগ্রহণের পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে পুরোপুরি নিজেকে নিয়োজিত করেন।

২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ঢাকার ধানমন্ডি ইবনে সিনা কার্ডিয়াক সেন্টারে সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Facebook Comments Box