
ময়মনসিংহের ত্রিশালে চাঁদা না দেওয়ায় বিদেশ ফেরত প্রবাশীর নির্মাণাধীন বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গত ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সময় আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার ধলা বাজার স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন বিদেশ ফেরত নূর মোহাম্মদের বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। এসময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা নির্মাণ সামগ্রীর ৩০০ বস্তা সিমেন্ট ও ৫টন রড়সহ মালামাল লুট করে নিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষে মামলা দায়ের করার পক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড়ীর মালিক বিদেশ ফেরত নূর মোহাম্মদ।
নুর মোহাম্মদের অভিযোগে জানা গেছে- জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধলা বাজার স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকায় বিদেশ ফেরত নূর মোহাম্মদ প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তার সাফ কাওলা মুলে ক্রয়কৃত জমিতে বাড়ী নির্মাণ কাজ চালাচ্ছিলো। নির্মাণ কাজ চলাকালে নূর মোহাম্মদ বাড়ীতে এসে গত ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সময় আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রফিকুল (৪৫) এর নেতৃত্ব স্থানীয় জয়নালের পুত্র তফাজ্জল (৪৬) আনারুল (৪২) আব্দুল হাই মেম্বারের পুত্র মজিবর (৪৮) ও বাবুল মন্ডলসহ একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র বাড়ীর নির্মাণ কাজে বাঁধা দেয় ও চাঁদা দাবী করে এবং এর পরও কাজ করতে থাকলে উক্ত সন্ত্রাসীরা দলবলে একত্রিত হয়ে বাড়ী নির্মাণ করতে বাঁধা দেয় ও রাজমিন্ত্রী সোহেলকে মারধর করে। এসময় তারা নুর মোহাম্মদ এর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। তিনি চাঁদা দিতে না পারায় তার ঘর, দরজা দা এবং লোহার বল্লম দিয়ে ভেঙ্গে লন্ডভন্ড করে ফেলে এবং ঘরে থাকা নির্মাণ সামগ্রী ৩০০ বস্তা সিমেন্ট ও ৫টন রড় লুট করে নিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন - অভিযুক্ত এই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা বিগত সরকারের আওয়ামীলীগ আমলের আওয়ামী রাজনীতি করতো, তবে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর খোলস পাল্টে ওরা নিজেকে বিএনপি দলীয় রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপটের সাথে প্রকাশ্যে বীরদর্পে বিভিন্ন অপরাধমোলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে ময়মনসিংহের উর্দ্ধতন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ব্যক্তিদের অতিদ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে চক্রটি। এর আগেও সাধারণ লোকজনকে মারধর ও মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে তারা এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।