
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচন ২০১৫ ও ২০২১ এর নির্বাচনে সাধারন মানুষদের বাধ্যতামূলকভাবে দেখিয়ে ভোট নেয়া বিজয়ী মেয়র তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল। তিনি প্রথমবার অর্থাৎ ২০১৫ সালের নির্বাচনে এক রকম তৎকালীন মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার থেকে ছিনিয়ে নেন। সুভাষ চন্দ্র শীল আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দলীয় অনুসারীদের জোড় করে বসিয়ে দেন এবং জনগনের মাথায় চাপিয়ে দেন মেয়রের ভোটটি দেখিয়ে দিতে হবে। এমনকি নির্বাচনের দিন যারা মেয়রের ভোটটি দিতে যারা না দেখিয়ে দিতে রাজি হয় তাদের করা হয় মারধর। যাদের পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে লাঞ্চিত ও করা হয়। এছাড়াও ২০২১ এর পৌরসভা নির্বাচনে একই পদ্ধতি অনুসরনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হন। সোজা কথায় ভোট না টাকিয়ে ভোট দেখিয়ে নিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরন করে তিনি দুবার মেয়র হয়েছেন। তারপর যেন পৌরবাসী পরে আইনের মার প্যাচে। তিনি ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় তার ইচ্ছে মত শুরু হয় বিভিন্ন নিয়ম কানুনের নামে ভোগান্তি। যার কিছু তুলে ধরা হলো।
বানারীপাড়া পৌরসভার সকল কাজ হত সন্ধার পর। দিনে কোনদিন তিনি অফিস করেননি। সন্ধার পর তিনি পৌরসভায় এসে রাত নয়টার দিকে সিএনজি নিয়ে বরিশাল চলে যেতেন।
নাগরিকত্ব সদন পত্র পেতেও সময় লাগত এক সপ্তাহ। ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়ে করেছেন যা ইচ্ছে তাই। এক মাস না হলে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট পাওয়া যেতনা। বিভিন্ন সরকারি অনলাইন সেবার জন্য তার মাস্তানবাহীনি নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিত তার মাস্তানবাহীনি টাকা। সোজা কথায় টাকা ছারা সেবা পাওয়া ছিলো মুশকিল। বিতিন্ন কার্ড ও গর্ভবতীদের ভাতায় দিতে হত এক থেকে দু হাজার টাকা। পানির বিল অন্য সকল পৌরসভায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা থাকলেও বানারীপাড়ায় তার পৌরসভার এসির বিলে মেটাতে পানির বিল করা হয় ২০০ টাকা। ওয়ারিশ সার্টিফিকেট পেতে পূর্বে ৫০০ জমা দিতে হলেও পরবর্তীতে তিনি করেন ১০০০ টাকা। সোজাকথায় বানারীপাড়া পৌরসভা মানে ভোগান্তিসভা। তার সময়ে প্রায় দুইশত কোটি টাকার কাজ আসলেও সেটা তিনি সরকারকে ফেরত দিয়ে পৌরবাসীকে রাখেন ভোগান্তিতে যেমন এখনো রাস্তা ঘাট একটু বৃষ্টি হলে খালে পরিনত হয়। এত অপরিকল্পিত কাজ আর কোন সময় হয়নি। পৌরবাসী যেকোন কিছুর অভিযোগ করতে গেলে লিখিত অভিযোগ চাইত হয়ে যাবে বলে আর হতোনা। এছাড়াও পৌরসভায় তিনি নিয়োগ জালিয়াতি তিনি করেছেন।তিনি তার ক্ষমতা ব্যবহার করে তার আপন ভাইয়ের ছেলেকে দিয়েছেন পৌরসভায় নিয়োগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান তিনি এক লাখ টাকায় নিচে হলে সেই উৎকোচ তিনি গ্রহন করতেন না। এছাড়াও পার্সেনটিচ ও কমিশনে একই প্রক্রিয়া ফলো করতেন।
তার বাড়ির এক জনৈক লোক জানান তিনি ভারতে বাড়ি একটি বাড়ি করেছেন যেকোন সময়ে তিনি ভারতে চলে যেতে পারেন।
এদিকে ডেভিল হান্ট ফেজ ১ ও ২ হলেও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে । গোপন সুত্রে জানা যায় তিনি এখন বরিশাল সিটিতে রয়েছেন। তবে বানারীপাড়ার সাধারন মানুষের একটাই দাবী এই দেখিয়ে ভোট নেয়া মেয়র 'কে অবিলম্বে হান্ট করে বিচারের আওতায় আনা হোক।।