
স্টাফ রিপোর্টারঃ
নির্বাচনী প্রচারে কর্মী সমর্থকদের উপর ধারাবাহিক হুমকি, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এবার ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমসহ ১৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫শ জনের নামে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে মামলাটি করেছেন।
জানা যায়, নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের (হরিণ) কর্মী সমর্থকদের মাঝে পালটাপালটি হামলার অভিযোগ করে আসছিলেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কানার মার্কেট, বাটাজোর বাজার ও হবিরবাড়িতে মারামারির ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় মোর্শেদ আলমের লোকজন এসে উপজেলা বিএনপি অফিসসহ আশপাশের দোকানপাট ভাঙচুর করেন।
পৌর বিএনপি নির্বাচনি মিছিল ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের অফিসে হামলা করে। পরে ধানের শীষের কর্মী সমর্থকরা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হরিণের সমর্থক আদি খান সাকিলের ব্যক্তিগত অফিসে হামলা করে অগ্নিসংযোগ করেন। রাত ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলাজুড়ে হামলা পাল্টা হামলা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ থাকে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে থেকে দুটি অভিযোগ ভালুকা মডেল থানায় দিলে সোমবার গভীর রাতে রুহুল আমীন মাসুদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচনি সহিংসতার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অপর একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম এর নির্বাচনী প্রচারে ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়াছে প্রতিপক্ষ বিএনপি দলীয় প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তুলেন মোর্শেদ আলম।
ভালুকার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের ধারণা মতে- নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে কৌশল গত ভাবে ঘায়েল করতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশ্নের দেখা দিতে পারে।
অপরদিকে দু'পক্ষের এমন পাল্টা পাল্টি এ্যাকশন ও হামলা-মামলায় স্থানীয় ভোটারদের মাঝেও চরম আতঙ্কের দেখা দিয়েছে।