আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১২নং ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে জমি নামজারিসহ বিভিন্ন কাজে নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্বরত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না এবং অর্থের বিনিময়ে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদন তৈরি করেন। তার এই প্রক্রিয়ায় প্রতারিত হচ্ছেন অসংখ্য নিরীহ মানুষ, যারা পরবর্তীতে জমি নিয়ে মামলা ও জটিলতায় পড়ছেন।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমির খাজনা, দাখিলা, নামজারি (মিউটেশন) এবং ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সরকারি সেবা প্রদান করে থাকে। ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা দ্রুত সেবাগ্রহীতাদের মাঝে পৌঁছে দিতে সরকার নানান উদ্যোগ নিলেও এর উল্টো চিত্র বিরাজ করছে ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সুত্র জানিয়েছে এই অফিসে সেবা নিতে আসলে গুনতে হয় টাকা আর টাকা না থাকলে হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়, এমন অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের।
এই ভূমি অফিসে কারণে-অকারণে সেবাগ্রহীতা জনসাধারণকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। আবার দিন দিন দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে এবং অফিসের লোকদের সঙ্গে ঘুষের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ না হয়ে সেবা নিতে গেলে সেবাগ্রহীতাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমনকি চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে দীর্ঘদিনেও অফিসের টেবিল থেকে নড়ে না ফাইল। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ছে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা জনসাধারণ।
স্থানীয়রা জানান, নায়েব লুৎফর রহমান দালাল চক্রের সহায়তায় অবৈধভাবে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত কাজের অনুমোদন দিচ্ছেন। দালালদের মাধ্যমে কাজ করায় ভূমি মালিকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানান, “আমি জমির নামজারি করতে অনেক চেষ্টার পরেও সঠিক কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। টাকা না দিলে কোনো কাজ হয় না।” তার মতো আরও অনেকেই জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমির খারিজ, ডিসিআর, মিসকেসসহ অন্যান্য জমি সংক্রান্ত সেবা ও সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি অফিসে আসেন এলাকার জনসাধারণ। এ অফিসে পা রাখলেই নানা সমস্যায় পড়তে হয় সেবাগ্রহীতাদের। সবচেয়ে হয়রানিতে পড়তে হয় খাজির ও মিসকেস নিয়ে।
বর্তমানে ভূমি অফিসের প্রায় সকল কার্যক্রম অনলাইনে। তথ্য মতে, একজন খারিজ গ্রহীতা প্রথমে অনলাইনে আবেদন করবেন। এর পর তার হার্ড কপি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে জমা দিতে হয়। আবার জমি সংক্রান্ত সকল সেবার জন্য নিময় অনুয়ায়ী লিখিত অবেদনও জমা দেওয়া হয়। এর পর শুরু হওয়ার কথা সেই ফাইলের কাজ।
অভিযোগ উঠেছে-ঘুষের টাকা ছাড়া সেবাগ্রহীতারা আবেদনপত্র জমা দিলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি অফিস ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেটের বাহিরে গেলেই আবেদন বাতিল করাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। অথচ নায়েবের চাহিদা মতো অতিরিক্ত টাকা দিলেই তারা অফিসের ভিতরে গেলেই চোখের পলকে সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।
অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে, প্রতিটি নাম জারী খারিজের নথি পিছে ২হাজার টাকা নায়েবকে দিতে হয়,প্রতিটি মিস কেইস, ১৪৪সহ বিভিন্ন মামলার প্রতিবেদনে নায়েবকে দিতে হয় ৩-৫ হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে নায়েব লুৎফর রহমান। খাজনার টাকা আদায়ে বেশী বেশী করে ছাড়লেও পরে তাকে টাকা দিলেই খাজনার পরিমাণ কমে যায়,এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্লেষকরা। ভূমি বিষয়ে কেউ নায়েবের সাথে কেহ পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করে তার সাথে ভূমি বিষয়ে ভালো মন্দ পরামর্শ করতে গেলে নায়েব লুৎফর রহমান তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সুত্র জানিয়েছে- ঘুষের টাকা নেওয়ার জন্য অফিসে নায়েবের নিয়োজিত দুজন লোক রয়েছে তার, একজন মহিলা ও অপরজন পুরুষ।
সুত্র জানিয়েছে- ঘুষ না দিলে দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরে ও ধর্না দিয়েও মেলে না কোনো প্রতিকার। বিশেষ করে, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নায়েবের এই ঘুষ বাণিজ্যে। গ্রামের সহজ সরল ভূমি মালিকরা ভূমি অফিসে গেলে প্রতিটি ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে নিচ্ছে ভূমি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান। তার ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভাবখালী ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতারা।
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে প্রতিবেদক তার পরিচয় দিয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করলে নায়েব লুৎফর রহমান এই প্রতিবেদকের সাথে এমন আচরণ করেন যেন তার সমতুল্য অফিসার এই দেশে আর নেই। আচরণে এমন মনে হলো যেনো তার কাছে সাংবাদিকরা মুল্যহীন।
ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, ভাবখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এ ধরনের অনিয়মে সুষ্ঠু তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

