
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন অষ্টমী স্নান উৎসব (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দিনভর ময়মনসিংহে স্নান এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার কামরুল হাসান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকার ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় তারা সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সেবামূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
প্রশাসন সুত্র জানিয়েছে- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘মহাষ্টমীর স্নান’ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং উৎসবের আমেজ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারও বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সে অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ জানানো জানানো হয়েছে, এবার অষ্টমীর স্নান উৎসবের জন্য আবাসন,কেওয়াট খালী,ইস্কন মন্ন্দির সংলগ্ন , কাটাখালী, জয়নুল উদ্যান পার্ক,পাওয়ার স্টেশন ঘাট, কাচারী ঘাট, গোদারা ঘাটসহ বিভিন্ন স্পটে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর থেকে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাসহ আর্থিক সাহায্য দিয়েছে প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকার।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান-এবার স্নান উৎসব চলাকালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং চাঁদাবাজি রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি আরও শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলার অন্যান্য বাহিনীও থাকছে মাঠে।
এদিকে, নদীতে পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নদীতে সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে ফায়ার সার্ভিস ও স্পিডবোট। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে দক্ষ ডুবুরি দল এবং পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, স্বাস্থ্য সেবা, বিশুদ্ধ পানি, প্যান্ডলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, অষ্টমীর স্নান উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই আয়োজনকে সফল ও সুশৃঙ্খল রাখতে স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।