স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পুরোনো সব বদনাম কলঙ্ক ধুয়ে-মুছে দেশের সকলের কাছে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে আগামীদিনে দলটির কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে দলের দায়িত্ব নিতে চায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য প্রফেসর এ আর খান।
তিনি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের আচারগাঁও গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ খানের ছেলে। ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন।
সম্প্রতি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও আওয়ামী লীগ করার কারণে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে তিনি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার স্থান দখল করে নেন।
প্রফেসর ড এ আর খান গত ২০০৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে ২০১২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ নামে একটি সংগঠন গঠন করে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সে সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যার্শী ছিলেন। কিন্তু দল থেকে সে সময় মনোনয়ন পাননি বিশিষ্ট এই পর্যটনবিদ।
পরে গত ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও ভোটে দাঁড়াতে পারেননি।
প্রফেসর এ আর খান নিজেই একটি রাজনৈতিক দল—ফেডারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি – এফডি পার্টি গঠন করেন। বর্তমানে তিনি এফডি পার্টির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। তবে এখন পর্যন্ত দলটি নিবন্ধন না পাওয়ায় প্রফেসর ড এ আর খান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন। তাতেও শেষ রক্ষা হলো না তার। আওয়ামী লীগের গন্ধ শরীরে থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তার মনোনয়ন পত্রটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে দেয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে আপিল করেও মনোনয়ন পত্রের বৈধতা পাননি প্রফেসর ড.এ আর খান।
প্রফেসর ড. এ আর খান কখনো অপরাজনীতি করেনি, তিনি মনে করেন রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা, মানব সেবার ব্রত নিয়ে নিয়ে তিনি কাজ করে যেতে চান। তাই তিনি নিজে একটি দল গঠন করেন। তার গঠিত দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুর্বে নিবন্ধিত না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ করার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করে দেওয়ায় দলটির দায়িত্ব নিয়েই কাজ করতে চান।
প্রফেসর ড. এ আর খান বলেন, দলটিকে শক্তিশালী সংগঠনে তৈরী করতে আমি দলের দায়িত্ব নিতে চাই তবে এটি দলের সদস্যদের ওপর নির্ভর করছে। যদি দল চায় তিনি (শেখ হাসিনা) নেতৃত্ব দেবেন, তবে তিনিই থাকবেন। কারণ আওয়ামী লীগ পুরোপুরি গণতান্ত্রিক দল। জনগণের দল, কে নেতৃত্ব দেবে, সেটি সম্পূর্ণরূপে দলের সদস্য ও দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করবে।’
তবে দলের এই দুঃসময়ে দলকে সাংগঠনিক ভাবে এগিয়ে নেওয়াটা জরুরি আর সে লক্ষেই তিনি দলটির দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চান বলে জানিয়ে তিনি বলেন- তার নেতৃত্ব ও দলের প্রতি আনুগত্য থাকবে প্রশ্নাতীত। তিনি দলের প্রতি তার অবিচল নিষ্ঠার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে কাজ করতে চান, যা দলের সংকটময় মুহূর্তে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাহায্য করবে।
তিনি বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আবেগ, অনুভূতি আর ভালোবাসার এক বহিঃপ্রকাশ। তিনি দলের ঐক্য ও শৃংখলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

