ঢাকারবিবার , ২ নভেম্বর ২০২৫
  1. অপরাধ ও দুর্নীতি
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. গ্রাম-গঞ্জ-শহর
  8. জাতীয়
  9. ধর্ম ও ইসলাম
  10. বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপন
  11. ভূমি
  12. রাজধানী
  13. রাজনীতি
  14. শিক্ষা ও ক্যাম্পাস
  15. স্বাস্থ্য ও জীবন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ: ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান ভুক্তভোগীর

প্রতিবেদক
Daily Somor Diganta
নভেম্বর ২, ২০২৫ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাসের সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ময়মনসিংহবাসীর মাঝে বিষয়টি চরম আলোচনা-সমালোচনার স্থান পেয়েছে।

অনেকেই প্রতিবেদককে অনুসন্ধানী রিপোর্টটি করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আবার অনেকেই জানিয়েছেন জীবন কুমার বিশ্বাসের দুর্ণীতি ও অনিয়মের শিকার হয়ে তাদের নিঃস্ব হওয়ার কথা। এমন একজন নগরীর মাসুম মিয়া। মাসুম মিয়ার বাড়ী নগরীর ৭৭বি বাঘমারা রোড চড় পাড়ার মোড় এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে-মাসুম মিয়ার বৈধ জমিকে রাস্তার জায়গা হিসাবে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে একই এলাকার আরেক বাসিন্দার নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। কারণ বাসায় যাতায়াতের জন্য ওদের কোন জায়গা নেই। তাই মাসুমদের জায়গা নিতেই হবে। আর এই কাজে ভূমি কর্মকর্তা পেয়েছেন মোটা অংকের অর্থ।

ওদের কথা হলো তাদের ১৪৪৯২ দাগে মাত্র একশতাংশ জমি। যার সবটুকুতেই বাড়ি তৈরি করেছে। দু’তলা সেই বাড়িতে ৬ ভাই ৬ স্ত্রী আর ১৩ জন ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস তাদের। বাসা নির্মাণের সময় রাস্তার জায়গা না রাখা ভূল ছিলো তাদের। তারা ভূমি কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাসের দ্বারস্থ হলো। যে কোন কিছু বিনিময়ে চলাচলের জন্য ব‍্যবস্থা করে দিলে তাকে খুশি করার চুক্তি হলো। অনিয়মে অভিজ্ঞ জীবন কুমার বিশ্বাস চুক্তি অনুসারে মাসুদ মিয়া গংদের ১৪৪৯১ নং জমির দাগে হাত বাড়িয়ে দিলেন আর মাসুমদের জমিকে অন্যের চলাচলের রাস্তা হিসাবে রিপোর্ট দিলেন। অথচ আরওআর ম‍্যাপে ১৯৬৩ সনেও সেখানে রাস্তার কোন অস্তিত্ব ছিলো না, এমনকি বিআরএস ম‍্যাপেও ১৯৯৬ সনেও নাই। তদন্ত রিপোর্টে দেখালেন ৭০ বছরের পারিবারিক রাস্তার অস্তিত্ব। অথচ পারিবারিক রাস্তা হলেও দুপক্ষের জমি দরকার।

বিষয়টি জানতে মাসুম মিয়া ভূমি সহকারি কর্মকতার সাথে কথা বললে দোষ চাপিয়ে দেয়া হয় থানা-পুলিশের উপর। থানার তদন্ত রিপোর্ট নাকি মাসুমদে বিপক্ষে আছে সেটা জানানো হয়। আবার মাসুমকে বলা হয়- আপনি আমাকে দেখলে আপনাদের ১৪৪৯১ দাগটি আপনাদের জমি হিসাবে দেখাব। মাসুম মিয়ার সাফ কথা আমার দাগ আলাদা ওদের দাগ আলাদা আপনি আমার জমির উপর দিয়ে কি ভাবে রাস্তা দেখাবেন, আর আপনি দিলে কি হবে, আমি আপনাকে খুশি করতে পারবনা যা মনচায় আপনি রিপোর্ট দেন।

অভিযোগ উঠেছে- ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কারনে বর্তমানে মামলায় জরঝড়িত অসহায় মাসুম মিয়ার পরিবার। তার নিজ জমিতে অন্যের চলার জন্য রাস্তার জমি দেখিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দেওেয়ার কারনে এই পরিবারটি বিচারের আশায় আইন আদালতের দ্বারেদ্বারে ঘুরছে। অথচ তার এমন দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করায় স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সুত্র জানিয়েছে- ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাস জেলার ভালুকা উপজেলায় বিগত ১২ বছর চাকরী করে একই কৌশলে একজনের জমিতে আরেকজনের ভাগ বসিয়ে কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর এসব দুর্ণীতি ও অনিয়মে উপার্জিত অর্থ দিয়েই ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যা পতিপুর্বে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

সুত্রটি আরো জানিয়েছে- ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাস ভালুকা সদর ইউনিয়নে থাকা অবস্থা বহু জমির মালিকানা নিয়ে ছয় নয় করেছে এবং বহু টাকা কামিয়েছে। তারপর আওয়ামিলীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভালুকা উপজেলার শিল্প এলাকা হবিরবাড়ি ইউনিয়নে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসাবে বদলী হন। সেখানে দায়িত্ব নিয়ে হবিরবাড়ি ইউনিয়নের চিহ্নিত ভূমিদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন এলাকার জমি ঘুষের বিনিময়ে এক মালিকের জমি অন্য মানুষকে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। পরে সেখান থেকে উপজেলার মল্লিক বাড়ি ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব নিয়ে সেখানেও একই কৌশলে ঘুষ বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে কোন এক অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদরে বদলি হন। তাকে দেওয়া হয় সদরের বোররচর ইউনিয়নে। মাত্র ২২দিনের ব্যবধানে বোররচর ইউনিয়ন থেকে বদলী হয়ে পাড়ি জমান ময়মনসিংহ পৌর ভূমি অফিসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নায়েব জীবন কুমার বিশ্বাস ভূমি অফিসে চাকরী নেওয়ার পর থেকে ঘুষ নিয়ে জমি সংক্রান্ত অবৈধ কাজ করে আসছেন। টাকা দিলে অনিয়ম করেও মিউটেশন, নামজারি, দাখিলা ইত্যাদি করে দেন, আর টাকা না দিলে ন্যায্য কাজও আটকে রাখেন এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।

এ বিষয়ে নায়েব জীবন কুমার বিশ্বাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনে তার এতটাই প্রভাব রয়েছে যে, কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তারা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের জমিজমা নিয়ে চরম বিপদে পড়বে। নায়েব জীবন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দুর্নীতি আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।”

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ পৌর ভূমি অফিসের এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেছেন, “এই ধরনের দুর্নীতি চলতে থাকলে সাধারণ জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তাই অনতিবিলম্বে নায়েব জীবন কুমার বিশ্বাসের ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।”

চাকরী পাওয়ার পর হিরো হওয়া ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জীবন কুমারের এতসব দুর্নীতির তদন্তের জন্য দুর্ণীতি দমন কমিশনের দিকে তাকিয়ে আছে ময়মনসিংহের আপামর জনতা। এখন দেখার বিষয় প্রশাসন কি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে?

Facebook Comments Box