বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই অভ্যূত্থান ছিল গণআকাঙ্ক্ষার প্রতীক—বৈষম্যহীন, ন্যায়, ইনসাফ, সুশাসনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ছিল এর মূল ভিত্তি।
কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংবিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সংস্কারকে পাসকাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। সংবিধান জনগণের কল্যাণে প্রণীত; জনগণের অভিপ্রায়কে উপেক্ষা করার জন্য নয়। তাই জনগণই সংস্ককার বিরোধী যে কোন চক্রান্ত প্রতিহত করবে।
বুধবার (৪ মার্চ ২৬) বিকেলে মহেশখালী উপজেলা দক্ষিণ আয়োজিত তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একটি মীমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে কোনরূপ প্রশ্ন তুলার সুযোগ নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার সংবিধানের দোহায় দিয়ে জনগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গণভোটের রায় উপেক্ষা করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনরায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তার উচিত জবাব জনগনই দেবে।
ড. হামিদ আযাদ আরও বলেন, স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা ছাড়া গণতন্ত্র সুসংহত করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার চাতুর্যের সাথে গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন বিচার বিভাগকে রাজনীতিকরণ করা হলে মানুষের মধ্যে বিচার বিভাগ সম্পর্কে অনাস্থা তৈরি হবে।
এসময় ড. হামিদ আযাদ নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স এবং নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারা নিয়েও সমালোচনা করেন।
এসময় মতবিনিময় সভায় উপজেল দক্ষিণ সেক্রেটারি আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা দক্ষিণ আমীর মাস্টার শামিম ইকবালের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মোঃ জাকের হোসাইন, সাবেক ছাত্রনেতা ও কক্সবাজার শহর জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি কামরুল হাসান, সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ আজিজ সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

