স্টাফ রিপোর্টার:
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
খুনিদের গ্রেপ্তারে শিক্ষার্থীদের দেওয়া আল্টিমেটাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বিশাল বিন, বিপুল বিন, রাজ বিন, হৃদয়, দেবরাজ বিন ও মুন্না বিন। তাদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার চর জেলখানা এলাকার বিনপাড়ায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন রাতে বলেন, শাওন হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের ১০টি দল অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে বুধবার বিকালে (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকাল আনুমানিক ৫টায় শাওন ও তার বন্ধু রিয়াদ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গেলে ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় রিয়াদ প্রাণে বাঁচলেও নিখোঁজ হন শাওন।
দুদিন পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা নাহিদা আক্তার ওরফে সাহিদা বেগম ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অ”জ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আ”সা”মি করে মা”ম”লা দায়ের করেন। কোতোয়ালী মডেল থানায় মা”ম”লা নং-৩৮, তারিখ ১৯/০২/২০২৬ খ্রি., দ”ণ্ড”বি”ধি ১৮৬০-এর ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩৬৪/৩৪ ধারায় মা”ম”লা রুজু করা হয়।
শনিবার দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে নুরুল্লাহ শাওনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শনিবার রাত ৮টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।
শাওনের জানাজায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করে বলেন, “শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের উপদ্রব যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা মেনে নেওয়া যায় না।”
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শুক্রবার রাতে শাওনের মরদেহ উদ্ধারের খবরে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে টাউন হল মোড়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ সুপার, ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)-কে দ্রুত আ”সা”মি গ্রে*ফ*তা*র ও ঘটনার র”হ”স্য উ”দ্ঘা”টনের নির্দেশনা দিলে এর প্রেক্ষিতে ডিবি ও কোতোয়ালী মডেল থানার একাধিক চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রকোনা জেলার সাতপাই ও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামী বিশাল বিন (১৪). রাজ বিন (১৩),বিশাল বিন (১৫), দেবরাজ বিন (১৪),. হৃদয় বিন (১৫),. বিপুল বিন (১৬)কে গ্রেফতার করে। তাদের বাড়ী ময়মনসিংহের চর জেলখানা (বিনপাড়া),এলাকায়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত আছে। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রে”ফ”তা”র”কৃ”ত”দের বি”রু”দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আ”সা”মি”দে”র গ্রে”ফ”তা”রে”র জন্য অ”ভি”যা”ন অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।

